অটিজম আক্রান্ত অনেক শিশু মাত্র কয়েকটি খাবার খায়। এর কারণ প্রায়ই জেদ নয়, সেন্সরি সংবেদনশীলতা। এই সহজ ধাপগুলো ধীরে ধীরে নতুন খাবারে অভ্যস্ত হতে সাহায্য করে।
শুধু সাদা ভাত। শুধু এক ব্র্যান্ডের বিস্কুট। সবজি দেখলেই বমি ভাব। অটিজম আক্রান্ত শিশুর অনেক অভিভাবক জানেন খাওয়ার সময় কতটা চাপের হতে পারে। অটিজমে খাবার বাছাই সাধারণত দুষ্টুমি নয়: খাবারের স্বাদ, গন্ধ, ধরন, রং, এমনকি চিবানোর শব্দও শিশুর কাছে অসহ্য লাগতে পারে।
অটিজম আক্রান্ত শিশুরা কেন খাবার বাছে
- সেন্সরি সংবেদনশীলতা: মেশানো খাবার, দলা বা তীব্র গন্ধ অস্বস্তিকর, এমনকি কষ্টদায়ক লাগতে পারে।
- একই রকম থাকার প্রয়োজন: পরিচিত খাবার নিরাপদ লাগে, নতুন খাবার অনিশ্চিত।
- মুখের পেশির দক্ষতা: কিছু শিশুর চিবাতে কষ্ট হয়, তাই নরম বা মচমচে খাবার পছন্দ করে।
- পেটের সমস্যা: কোষ্ঠকাঠিন্য বা অ্যাসিডিটিতে খাওয়া অস্বস্তিকর হতে পারে।
যে সহজ ধাপগুলো কাজে আসে
১. খাওয়ার সময় শান্ত রাখুন
চাপ, লোভ দেখানো বা ঝগড়া সাধারণত সমস্যা বাড়ায়। একসঙ্গে বসুন, নিজেও একই খাবার খান এবং পরিবেশ হালকা রাখুন।
২. সবসময় একটি পরিচিত খাবার রাখুন
প্রতিটি প্লেটে শিশু খায় এমন একটি খাবার রাখুন, যাতে খাওয়াটা কখনো ভয়ের না হয়।
৩. নতুন খাবার খুব অল্প, বারবার দিন
নতুন খাবার মুখে দেওয়ার আগে শিশুর হয়তো অনেকবার দেখা, ছোঁয়া ও গন্ধ নেওয়া দরকার। পরিচিত খাবারের পাশে মটরদানার মতো ছোট্ট একটু দিয়ে শুরু করুন। দেখা, ছোঁয়া বা চেটে দেখা, সবই অগ্রগতি।
৪. পছন্দের খাবার থেকে এগোন
একবারে একটি জিনিস বদলান: একই বিস্কুটের অন্য আকার, তারপর অন্য ব্র্যান্ড, তারপর কাছাকাছি কোনো খাবার। বড় লাফের চেয়ে ছোট ধাপ বেশি নিরাপদ লাগে।
৫. খাবার টেবিলের বাইরেও খাবারকে মজার করুন
সবজি ধোয়া, নাড়া, ঢালা বা খাওয়ার চাপ ছাড়াই খাবার নিয়ে খেলা নতুন ধরন ও গন্ধে অভ্যস্ত হতে সাহায্য করে।
৬. খাওয়ার নিয়মিত রুটিন
খাবার ও নাশতার নির্দিষ্ট সময় রাখুন, মাঝে মাঝে টুকটাক খাওয়া ও মিষ্টি পানীয় কমান, যাতে শিশু ক্ষুধা নিয়ে টেবিলে আসে।
কখন সাহায্য নেবেন
শিশুর ওজন কমলে, মোটামুটি ১৫–২০টির কম খাবার খেলে, প্রায়ই বমি ভাব বা বমি হলে, অথবা পেটের সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। ফিডিং থেরাপি সাহায্য করতে পারে: অকুপেশনাল থেরাপি খাবার নিয়ে সেন্সরি সমস্যায় কাজ করে, আর স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিবানো ও গেলার দক্ষতায় সহায়তা করে।
উত্তরা, ঢাকার ওয়ান্ডার কিডস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে আমাদের থেরাপিস্টরা অভিভাবকদের সঙ্গে খাওয়া, ঘুম ও অন্যান্য দৈনন্দিন রুটিন নিয়ে কাজ করেন। শিশুর জন্য পরিকল্পনা করতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
শিশুকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে?
আমাদের দল আপনার কথা শুনতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সাহায্য করতে প্রস্তুত।