অটিজম আক্রান্ত অনেক শিশুর ঘুম আসতে বা ঘুম ধরে রাখতে কষ্ট হয়, আর পুরো পরিবার ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সহজ ও শান্ত উপায়গুলো ঘুমের সময়কে সহজ করতে পারে।
অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা খুবই সাধারণ: ঘুম আসতে দেরি, রাতে বারবার জেগে ওঠা বা খুব ভোরে উঠে পড়া। ঘুম কম হলে পরের দিন শিশুর মেজাজ, মনোযোগ ও শেখায় প্রভাব পড়ে, অভিভাবকদেরও। ভালো খবর হলো, ছোট ছোট নিয়মিত পরিবর্তন প্রায়ই কাজে আসে।
১. একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠা
নিয়মিত সময় মেনে চললে শরীর বুঝতে পারে কখন ঘুমাতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন একই সময় রাখার চেষ্টা করুন।
২. ছোট ও নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন
গোসল, ঘুমের পোশাক, দাঁত ব্রাশ, একটি গল্প, বাতি নেভানো: প্রতি রাতে একই ক্রমে একই ধাপ। বিছানার পাশে ছবির রুটিন রাখলে শিশু বুঝতে পারে এরপর কী হবে।
৩. ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ
মোবাইল, ট্যাব ও টিভি মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, আর এদের আলো ঘুম আসা কঠিন করে। স্ক্রিনের বদলে শান্ত খেলা, বই বা হালকা গান দিন।
৪. ঘরকে সেন্সরি-বান্ধব করুন
অটিজম আক্রান্ত অনেক শিশু আলো, শব্দ ও স্পর্শে সংবেদনশীল। মোটা পর্দা, প্রয়োজনে হালকা নাইট লাইট, রাস্তার শব্দ ঢাকতে ফ্যান বা একটানা মৃদু শব্দ, আর শিশুর আরামদায়ক বিছানার চাদর ব্যবহার করুন। আরও ধারণা পাবেন আমাদের ঘরে সেন্সরি-বান্ধব পরিবেশের টিপস-এ।
৫. দিনের বেলায় সক্রিয় সময়
দিনে বাইরে খেলা ও শারীরিক নড়াচড়া রাতে বিশ্রামের জন্য শিশুকে প্রস্তুত করে। ঘুমের ঠিক আগে খুব উত্তেজনাপূর্ণ খেলা এড়িয়ে চলুন।
৬. সন্ধ্যার খাবার ও পানীয়
বিকেল ও সন্ধ্যায় চা, কফি, কোলা ও চকলেট এড়িয়ে চলুন। ঘুমের কাছাকাছি সময়ে ভারী খাবারের চেয়ে হালকা ও পরিচিত নাশতা ভালো।
৭. ধাপে ধাপে নিজে ঘুমাতে শেখান
ঘুমাতে শিশুর যদি আপনাকে ঘরে লাগে, কয়েক রাত পরপর একটু দূরে সরে যান, যেমন বিছানা থেকে চেয়ারে, তারপর দরজার কাছে। শিশু জেগে উঠলে শান্ত থাকুন: অল্প কথা, তারপর আবার বিছানায়।
৮. ঘুমের ডায়েরি রাখুন
দুই সপ্তাহ লিখে রাখুন কখন শুয়েছে, ঘুম আসতে কত সময় লেগেছে, রাতে কতবার উঠেছে এবং অস্বাভাবিক কিছু হয়েছে কি না। এতে প্রায়ই বোঝা যায় কী কাজ করছে, আর চিকিৎসক বা থেরাপিস্টের জন্য ডায়েরিটি খুব কাজে আসে।
কখন সাহায্য নেবেন
ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে, শিশু জোরে নাক ডাকলে, ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে গেলে বা অসুস্থ মনে হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন; অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অ্যালার্জির মতো শারীরিক কারণেও ঘুম নষ্ট হতে পারে। শান্ত হতে বাধা দেয় এমন সেন্সরি সমস্যায় অকুপেশনাল থেরাপিস্ট সাহায্য করতে পারেন, আর এবিএ-র কৌশল শান্ত রুটিন গড়তে সহায়তা করে।
উত্তরা, ঢাকার ওয়ান্ডার কিডস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে আমরা ঘুম, খাওয়া ও টয়লেটের মতো প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জে পরিবারগুলোর পাশে থাকি। আমাদের দলের সঙ্গে কথা বলতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
শিশুকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে?
আমাদের দল আপনার কথা শুনতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সাহায্য করতে প্রস্তুত।