অভিভাবকদের জন্য অটিজম নিয়ে সহজ ও পরিষ্কার গাইড: অটিজম কী, কোন লক্ষণ খেয়াল করবেন, কেন হয়, কীভাবে শনাক্ত হয় এবং থেরাপি কীভাবে শিশুকে এগিয়ে নেয়।
বাংলাদেশে অভিভাবকেরা সবচেয়ে বেশি যে বিষয়গুলো খোঁজেন, অটিজম তার একটি, আবার সবচেয়ে বেশি ভুল ধারণাও এ নিয়েই। এই গাইডে সহজ ভাষায় জানানো হলো অটিজম কী, কী নয়, আর সঠিক সহায়তায় অটিজম আক্রান্ত শিশু কীভাবে শিখতে ও এগিয়ে যেতে পারে।
অটিজম কী?
অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) হলো মস্তিষ্কের বিকাশের একটি আজীবন ভিন্নতা। এটি মূলত শিশুর যোগাযোগ, অন্যদের সঙ্গে মেশা এবং ইন্দ্রিয় দিয়ে পৃথিবীকে অনুভব করার ধরনকে প্রভাবিত করে। একে “স্পেকট্রাম” বলা হয় কারণ প্রতিটি শিশু আলাদা: কেউ সাবলীলভাবে কথা বলে, কেউ খুব কম বা একেবারেই বলে না; কারও প্রতিদিন অনেক সহায়তা লাগে, কারও কম।
অভিভাবকের লালন-পালনের কারণে অটিজম হয় না, আর এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগও নয়। আগেভাগে, শিশুর উপযোগী সহায়তা পেলে অটিজম আক্রান্ত শিশুরা যোগাযোগ, শেখা ও স্বাবলম্বিতায় সত্যিকারের অগ্রগতি করে।
অটিজমের সাধারণ লক্ষণ
সামাজিক যোগাযোগ
- চোখে চোখ কম রাখা বা হাসি ও আগ্রহ কম ভাগ করা
- শুনতে সমস্যা না থাকলেও নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া
- দেরিতে কথা বলা, বা যোগাযোগের বদলে শব্দ বারবার বলা
- কিছু দেখাতে বা চাইতে আঙুল দিয়ে না দেখানো
- অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে কষ্ট হওয়া
আচরণ ও ইন্দ্রিয়
- একই নড়াচড়া বারবার করা, যেমন হাত ঝাঁকানো, দোলা বা ঘোরা
- নির্দিষ্ট জিনিস বা বিষয়ে প্রবল আগ্রহ
- রুটিনের ছোট পরিবর্তনেও খুব অস্থির হওয়া
- শব্দ, আলো, স্পর্শ বা খাবারের ধরনে খুব সংবেদনশীল হওয়া, অথবা তীব্র অনুভূতি খোঁজা
লক্ষণগুলো সাধারণত ১ থেকে ৩ বছর বয়সে চোখে পড়ে। শুধু এক-দুটি লক্ষণ দেখা দিলেই শিশুর অটিজম আছে, এমন নয়। বিস্তারিত পড়ুন অটিজমের প্রাথমিক লক্ষণ।
অটিজম কেন হয়?
অটিজমের একক কোনো কারণ নেই। গবেষণা বলছে, জিনগত কারণের বড় ভূমিকা আছে, সঙ্গে জন্মের আগে মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলে এমন কিছু বিষয়ও। টিকা, মোবাইল-টিভি বা অভিভাবকের কোনো ভুলের কারণে অটিজম হয় না।
অটিজম কীভাবে শনাক্ত হয়?
অটিজম শনাক্তের কোনো রক্ত পরীক্ষা নেই। শিশু কীভাবে যোগাযোগ করে, খেলে ও আচরণ করে তা পর্যবেক্ষণ করে এবং শিশুর বিকাশ নিয়ে অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে এটি শনাক্ত করা হয়। আনুষ্ঠানিক রোগনির্ণয় করেন একজন যোগ্য চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ। থেরাপি সেন্টারে শিশুর বিকাশ ও অটিজম অ্যাসেসমেন্ট-এ শিশুর শক্তি, প্রয়োজন ও সঠিক থেরাপি পরিকল্পনা জানা যায়, আর আনুষ্ঠানিক রোগনির্ণয় দরকার হলে আমাদের দল পথ দেখায়।
কোন থেরাপি কাজে আসে?
- বোঝা, কথা ও যোগাযোগের অন্য উপায়ের জন্য স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি
- ছোট ছোট ধাপে যোগাযোগ, খেলা ও দৈনন্দিন দক্ষতা শেখাতে এবিএ
- সেন্সরি প্রয়োজন, হাতের দক্ষতা ও দৈনন্দিন রুটিনের জন্য অকুপেশনাল থেরাপি
- শেখা ও সামাজিক দক্ষতার জন্য ওয়ান-টু-ওয়ান বিশেষ শিক্ষা ও গ্রুপ প্রোগ্রাম
যত আগে সহায়তা শুরু হয়, তত ভালো: পড়ুন কেন আর্লি ইন্টারভেনশন জরুরি।
অটিজম কি ভালো হয়?
অটিজম “সারিয়ে তোলার” বিষয় নয়; এটি শিশুর নিজের পরিচয়েরই অংশ। যারা অটিজম পুরোপুরি ভালো করে দেওয়ার, বিশেষ খাবার বা দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের থেকে সাবধান থাকুন। যা সত্যিই কাজ করে তা হলো নিয়মিত, শিশুর উপযোগী থেরাপি ও ঘরে সহায়তা, যা শিশুকে যোগাযোগ করতে, শিখতে ও আরও স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে।
উত্তরা, ঢাকায় সহায়তা
উত্তরার সেক্টর ৫-এ ওয়ান্ডার কিডস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে অটিজম ও অন্যান্য বিকাশজনিত প্রয়োজন আছে এমন শিশুদের অ্যাসেসমেন্ট ও থেরাপি দেওয়া হয়। শিশুর বিষয়ে কথা বলতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন অথবা আমাদের ফোন করুন।
শিশুকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে?
আমাদের দল আপনার কথা শুনতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সাহায্য করতে প্রস্তুত।