অটিজম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্য স্কুল বাছাই বড় একটি সিদ্ধান্ত। এই প্রশ্নগুলো এমন জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করবে, যেখানে শিশু শিখবে, নিরাপদ থাকবে ও বেড়ে উঠবে।
অটিজম বা অন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্য সঠিক স্কুল সবকিছু বদলে দিতে পারে: সে কীভাবে শেখে, নিজেকে নিয়ে কেমন বোধ করে এবং জীবনের জন্য কতটা প্রস্তুত হয়। ঢাকায় সাধারণ স্কুল, বিশেষ স্কুল এবং শিক্ষা কার্যক্রমসহ থেরাপি সেন্টার আছে। কীভাবে তুলনা করবেন, জেনে নিন।
শুরু করুন শিশুর প্রয়োজন দিয়ে
স্কুল দেখতে যাওয়ার আগে পরিষ্কার হয়ে নিন এই মুহূর্তে শিশুর কী দরকার: যোগাযোগ, আচরণ, মনোযোগ, সেন্সরি প্রয়োজন, প্রাথমিক পড়া-লেখা ও সংখ্যা, নাকি দৈনন্দিন জীবনের দক্ষতা। সাম্প্রতিক একটি বিকাশ অ্যাসেসমেন্ট পরিষ্কার ধারণা দেয় এবং সঠিক প্রশ্ন করতে সাহায্য করে।
প্রতিটি স্কুলকে যা জিজ্ঞেস করবেন
১. প্রতিটি শিশুর কি আলাদা পরিকল্পনা আছে?
লক্ষ্য কীভাবে ঠিক হয়, অগ্রগতি কীভাবে মাপা হয় ও অভিভাবকদের জানানো হয়, তা দেখতে চান। ভালো স্কুল শিশুর মতো করে পাঠ সাজায়, উল্টোটা নয়।
২. একজন শিক্ষকের সঙ্গে কতজন শিশু?
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সাধারণত খুব ছোট গ্রুপে বা ওয়ান-টু-ওয়ান সবচেয়ে ভালো শেখে, বিশেষ করে শুরুতে।
৩. শিক্ষকেরা কি বিশেষ শিক্ষায় প্রশিক্ষিত?
অটিজম, আচরণগত সহায়তা ও ছবিভিত্তিক শেখানোর পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ আছে কি না, এবং থেরাপিস্টরা শিক্ষকদের সহায়তা করেন কি না, জিজ্ঞেস করুন।
৪. থেরাপি কি দিনের অংশ?
অনেক শিশুর শেখার পাশাপাশি স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি বা এবিএ দরকার হয়। শিক্ষক ও থেরাপিস্ট এক ছাদের নিচে থাকলে যাতায়াত বাঁচে এবং সবাই একই লক্ষ্যে কাজ করেন।
৫. কঠিন আচরণ কীভাবে সামলান?
শান্ত ও ইতিবাচক পদ্ধতি দেখুন, যেখানে আচরণের কারণ বোঝার চেষ্টা করা হয়; শাস্তি বা চিৎকার কখনোই নয়।
৬. পরিবেশ কি শান্ত ও নিরাপদ?
শব্দের মাত্রা, আলো, বিরতির জন্য শান্ত জায়গা, নিরাপদ খেলার জায়গা এবং কর্মীরা শিশুদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, তা দেখুন।
৭. ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কী?
শিশু প্রস্তুত হলে স্কুল তাকে সাধারণ ক্লাসে যেতে সাহায্য করে কি না, এবং বড় শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য কীভাবে প্রস্তুত করে, জিজ্ঞেস করুন।
কখন ওয়ান-টু-ওয়ান স্কুলিং কাজে আসে
যেসব শিশু এখনো ক্লাসরুমের জন্য প্রস্তুত নয়, যাদের আগে মনোযোগ, যোগাযোগ বা আচরণে সাহায্য দরকার, অথবা যারা স্কুলে ভর্তি বা ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য ওয়ান-টু-ওয়ান স্কুলিং উপযোগী। ওয়ান্ডার কিডসে আমাদের ওয়ান-টু-ওয়ান স্কুলিং প্রতিটি শিশুর পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, আর গ্রুপ প্রোগ্রাম-এ শিশুরা সমবয়সীদের সঙ্গে শেখা ও সামাজিক দক্ষতা চর্চা করে।
সিদ্ধান্তের আগে ঘুরে দেখুন
অন্তত দুই-তিনটি জায়গা ঘুরে দেখুন, সম্ভব হলে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে। কর্মীরা শিশুকে কীভাবে স্বাগত জানান এবং শিশুরা কেমন আছে, খেয়াল করুন। যা দেখছেন, তার ওপর ভরসা রাখুন। আরও প্রশ্নের জন্য পড়ুন ঢাকায় সেরা অটিজম সেন্টার বাছাইয়ের উপায়।
উত্তরার সেক্টর ৫-এ ওয়ান্ডার কিডস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ঘুরে দেখতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন, আমাদের দল আপনাকে ফোন করবে।
শিশুকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে?
আমাদের দল আপনার কথা শুনতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সাহায্য করতে প্রস্তুত।