১.৫ বা ২ বছর বয়সেও শিশু কথা না বললে অনেক অভিভাবক দুশ্চিন্তায় পড়েন। এই বয়সে কোনটা স্বাভাবিক, কোন লক্ষণে নজর দেবেন এবং ঘরে কীভাবে সাহায্য করবেন, জেনে নিন।
শিশুর বয়স ১.৫ বা ২ বছর, সমবয়সী অন্য শিশুরা শব্দ বলছে, অথচ আপনার শিশু এখনো কথা বলছে না। অভিভাবকদের কাছ থেকে আমরা সবচেয়ে বেশি এই দুশ্চিন্তার কথাই শুনি। প্রতিটি শিশু নিজের গতিতে বেড়ে ওঠে, তবে এই বয়সেই আগেভাগে সহায়তা সবচেয়ে বেশি কাজে আসে, তাই বিষয়টি ভালোভাবে খেয়াল করা জরুরি।
১.৫ ও ২ বছর বয়সে সাধারণত কী হয়?
- প্রায় ১ বছরে: আধো আধো শব্দ করে, হাত নাড়ে ও আঙুল দিয়ে দেখায়, হয়তো প্রথম শব্দটি বলে।
- প্রায় ১.৫ বছরে: কয়েকটি শব্দ বলে, “বলটা দাও”-এর মতো সহজ নির্দেশ বোঝে, আঙুল দিয়ে জিনিস দেখায়।
- প্রায় ২ বছরে: অনেক শব্দ বলে এবং দুই শব্দ জোড়া দিতে শুরু করে, যেমন “আরও দুধ” বা “বাবা যাও”।
কথা বলার মতোই জরুরি হলো বোঝা। যে শিশু ভালো বোঝে, আঙুল দিয়ে দেখায়, শব্দ নকল করে এবং আদান-প্রদানের খেলায় মজা পায়, সে এগুলো না করা শিশুর চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকে।
যে লক্ষণে অপেক্ষা না করে দেখাবেন
- ১ বছরে আধো আধো শব্দ না করা
- ১৬ মাসে একটি শব্দও না বলা
- ২ বছরে দুই শব্দের বাক্য না বলা
- আঙুল দিয়ে না দেখানো, হাত না নাড়া
- নাম ধরে ডাকলে কম সাড়া দেওয়া বা চোখে চোখ কম রাখা
- আগে বলা শব্দ বা শেখা দক্ষতা হারিয়ে ফেলা
এর যেকোনোটি দেখলে শিশুর শ্রবণশক্তি ও বিকাশ পরীক্ষা করানো ভালো। দেরিতে কথা বলা সাধারণ স্পিচ ডিলে হতে পারে, আবার অটিজম বা অন্য বিকাশজনিত প্রয়োজনের লক্ষণও হতে পারে; পার্থক্যটা বুঝতে পড়ুন দেরিতে কথা বলা নাকি অটিজম।
ঘরে শিশুকে কথা বলাতে ৮টি উপায়
১. শিশু যা করছে, তা নিয়ে কথা বলুন
প্রতিদিনের মুহূর্তগুলো ছোট ছোট বাক্যে বলুন: “তুমি ভাত খাচ্ছ।” “বল গড়াচ্ছে।” যে শব্দ শিশু বারবার শোনে এবং চোখের সামনে দেখে, সেগুলোই সে শেখে।
২. শিশুর উচ্চতায় নেমে আসুন
খেলার সময় মুখোমুখি বসুন, যাতে শিশু আপনার মুখ ও অভিব্যক্তি দেখতে পায়।
৩. অপেক্ষা করুন, বলার সুযোগ দিন
খেলনা বা খাবার দেওয়ার আগে একটু থেমে আশা নিয়ে তাকান। একটি শব্দ, ইশারা বা আওয়াজ, সবই গোনা হয়; প্রতিটি চেষ্টায় প্রশংসা করুন।
৪. একটি শব্দ যোগ করুন
শিশু “গাড়ি” বললে আপনি বলুন “লাল গাড়ি” বা “গাড়ি যায়”। শিশু যা বলে, তার চেয়ে শুধু এক ধাপ এগিয়ে বলুন।
৫. প্রতিদিন বই পড়ুন ও গান করুন
ছবির বই, ছড়া আর অঙ্গভঙ্গিসহ গান শব্দভান্ডার ও মনোযোগ বাড়ায়। প্রিয়গুলো বারবার করুন; পুনরাবৃত্তি সাহায্য করে।
৬. সহজ বাছাইয়ের সুযোগ দিন
দুটো জিনিস হাতে ধরে জিজ্ঞেস করুন, “কলা নাকি বিস্কুট?” এতে শিশু আঙুল দিয়ে দেখাতে বা শব্দটি বলার চেষ্টা করতে উৎসাহ পায়।
৭. স্ক্রিন টাইম কমান
শিশু ভাষা শেখে মানুষের কাছ থেকে, স্ক্রিন থেকে নয়। বিশেষ করে ২ বছরের আগে স্ক্রিনের বদলে একসঙ্গে খেলা ও কথা বলায় সময় দিন।
৮. ইশারা ও সাইনও ব্যবহার করুন
ইশারা ও সহজ সাইন শিশুর কথা বলা আটকায় না; বরং অনেক সময় শব্দ আরও তাড়াতাড়ি আসতে সাহায্য করে।
কখন স্পিচ থেরাপিস্ট দেখাবেন
ওপরের যেকোনো লক্ষণ দেখলে, অথবা শুধু মনে হলেও যে কিছু ঠিক নেই, “বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে” ভেবে অপেক্ষা করবেন না। স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসেসমেন্টে বোঝা যায় শিশু কীভাবে বোঝে, যোগাযোগ করে ও খেলে, এবং কোন সহায়তা কাজে আসবে। পড়ুন কেন আগে শুরু করা জরুরি।
উত্তরার সেক্টর ৫-এ ওয়ান্ডার কিডস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে আমাদের স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি হয় খেলার মাধ্যমে, আর অভিভাবকেরা ঘরে চালিয়ে যাওয়ার সহজ কাজ শিখে যান। আরও বিস্তারিত দেখা দরকার হলে আমাদের পূর্ণাঙ্গ শিশুর বিকাশ ও অটিজম অ্যাসেসমেন্ট আছে।
অভিভাবকদের সাধারণ প্রশ্ন
২ বছরের শিশু কথা না বললে কি তা স্বাভাবিক?
কিছু শিশু অন্যদের চেয়ে দেরিতে কথা বলে, তবে ২ বছরে বেশিরভাগ শিশু শব্দ বলে এবং দুই শব্দ জোড়া দিতে শুরু করে। আপনার শিশু তা না করলে স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ পরীক্ষা করানো ভালো।
বড় হলে কি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে?
দেরিতে কথা বলা কিছু শিশু নিজে থেকেই এগিয়ে যায়, কিন্তু অনেকেই যায় না, আর অ্যাসেসমেন্ট ছাড়া তা বোঝার উপায় নেই। আগে সহায়তা শুরু করলে কোনো ক্ষতি নেই, বরং অনেক উপকার হয়।
১.৫ বছরের শিশুর কি স্পিচ থেরাপি শুরু করা যায়?
হ্যাঁ। ছোট শিশুদের থেরাপি হয় খেলার মাধ্যমে, যেখানে মনোযোগ, বোঝা, ইশারা ও প্রথম শব্দ নিয়ে কাজ করা হয়, আর অভিভাবকেরা সঙ্গে থাকেন।
পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন
শিশুর দেরিতে কথা বলা নিয়ে পরামর্শ পেতে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন +880 1757-707684, অথবা অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন, আমাদের দল আপনাকে ফোন করবে।
শিশুকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে?
আমাদের দল আপনার কথা শুনতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সাহায্য করতে প্রস্তুত।